কমলগঞ্জে কালবৈশাখির তাণ্ডব: ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি, বিদ্যুৎ বিপর্যয়, পানিবন্দি অর্ধশত পরিবার

 

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় সোমবার দিবাগত রাতে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখি ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে বাড়িঘর, বিদ্যুৎ লাইন ও গাছপালার ব্যাপক ক্ষতি হয়। ভেঙে পড়া গাছের কারণে ভানুগাছ-শ্রীমঙ্গল সড়কপথ এবং সিলেট-আখাউড়া রেলপথে সাময়িকভাবে যান ও ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে, এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ ও যাত্রীরা।

উপজেলার শমশেরনগর, পতনঊষার ও মুন্সিবাজার ইউনিয়নে প্রায় ৫০টি ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ লাইনের ব্যাপক ক্ষতির কারণে পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে মুন্সিবাজার এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে শিক্ষার্থীদের অন্ধকারে পরীক্ষা দিতে গিয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান এলাকায় গাছ ভেঙে পড়ায় সোমবার ভোর থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত ভানুগাছ-শ্রীমঙ্গল সড়কপথ বন্ধ থাকে। এছাড়া শমশেরনগর বিমান বাহিনী ইউনিট সংলগ্ন রেলপথে গাছ পড়ে যাওয়ায় ঢাকাগামী কালনী এক্সপ্রেস প্রায় ৪০ মিনিট আটকা পড়ে, এতে হাজারো যাত্রী দুর্ভোগে পড়েন।

এর আগের দিন রোববারও কালবৈশাখি ঝড়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ৫৫টি ঘর বিধ্বস্ত হয় এবং বিদ্যুৎ লাইনসহ বিপুল পরিমাণ গাছপালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এদিকে, টানা বৃষ্টিপাত ও উজানের ভারতীয় পাহাড়ি ঢলে উপজেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মুন্সিবাজার ও পতনঊষার এলাকায় অর্ধশতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ধলাই ও লাঘাটা নদীসহ বিভিন্ন পাহাড়ি ছড়ায় পানির উচ্চতা বিপদসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

শমশেরনগর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার রজত কুমার জানান, ঝড়ে রেলপথে গাছ পড়ে যাওয়ায় কালনী এক্সপ্রেস ট্রেন লংলা স্টেশনে প্রায় ৪০ মিনিট আটকা পড়ে।

মুন্সিবাজার কালিপ্রসাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সত্যেন্দ্র কুমার পাল বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় পরীক্ষা কেন্দ্রে শিক্ষার্থীদের কিছুটা দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খালেদ বিন অলীদ জানান, ধলাই নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেও তা এখনও বিপদসীমার দেড় ফুট নিচে রয়েছে এবং পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

Previous Post Next Post