সুনামগঞ্জে বজ্রপাতে কলেজ শিক্ষার্থীসহ ৫ জনের মৃত্যু

 


সুনামগঞ্জ জেলায় পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় এক কলেজ শিক্ষার্থীসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে কালবৈশাখী ঝড়ের সময় হাওরে ধান কাটার সময় এসব দুর্ঘটনা ঘটে।

জেলার ধর্মপাশা উপজেলা এলাকায় বজ্রপাতে হবিবুর রহমান (২২) ও রহমত উল্লাহ (১৩) নামে দুইজনের মৃত্যু হয়। হবিবুর রহমান পাইকুরাটি ইউনিয়নের বড়ইহাটি গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে এবং বাদশাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ-এর ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। অপরদিকে রহমত উল্লাহ জয়শ্রী ইউনিয়নের সরস্বতীপুর গ্রামের জয়নাল হকের ছেলে।

জানা যায়, হবিবুর রহমান তার চাচার সঙ্গে টগার হাওর সংলগ্ন চকিয়াচাপুর গ্রামে বোরো ধান কাটতে গেলে হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড় শুরু হয়। এ সময় বজ্রপাতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে ধর্মপাশা সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়। একই ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হন।

অন্যদিকে, জয়শ্রী ইউনিয়নের সরস্বতীপুর ইসলামপুর গ্রামে বজ্রপাতে জয়নাল হক (৩৫), তার ছেলে রহমত উল্লাহ এবং শিখা মনি (২৫) আহত হন। পরে তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক রহমত উল্লাহকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত জয়নাল ও শিখা মনিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে, তাহিরপুর উপজেলা এলাকায় বজ্রপাতে আবুল কালাম ওরফে কালা মিয়া (২৮) নিহত হয়েছেন। তিনি জামলাবাজ গ্রামের আবু বকরের ছেলে। একটি হাঁসের খামারে কাজ করার সময় বজ্রপাতে তার মৃত্যু হয় এবং আরেকজন আহত হন।

একই দিনে জামালগঞ্জ উপজেলা এলাকায় নুরুজ্জামান নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। পাগনার হাওরে কাজ করার সময় বজ্রপাতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তার সঙ্গে থাকা অপর এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়ে সিলেটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এছাড়া দিরাই উপজেলা এলাকায় বজ্রপাতে লিটন মিয়া (৩৮) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দুপুরে কালিয়াগোটার হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে তিনি আহত হন। পরে তাকে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা পৃথকভাবে এসব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

Previous Post Next Post