ঐক্যের বার্তা আশাব্যঞ্জক, তবে প্রশ্ন থেকে যায় বাস্তবতা নিয়ে?
মাওলানা শোয়াইব আহমদ ও জননেতা নাসির উদ্দীন চৌধুরীর মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার প্রতিশ্রুতির খবর নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক। বিভক্ত রাজনীতি, পারস্পরিক অনাস্থা ও অবিশ্বাসের এই সময়ে এমন বার্তা সাধারণ মানুষের মনে কিছুটা হলেও স্বস্তি জাগায়। ঐক্যের কথা সবসময়ই সুন্দর, প্রয়োজনীয় এবং সময়োপযোগী—এই অনুভূতিই স্বাভাবিকভাবে সবার মধ্যে কাজ করে।
তবে রাজনীতির বাস্তবতা পুরোপুরি উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। দিরাই-শাল্লার স্বপ্নদ্রষ্টা জননেতা নাসির উদ্দীন চৌধুরীকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যতে স্বার্থের রাজনীতি প্রাধান্য পাওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। রাজনীতির মাঠ নির্মম—এখানে আদর্শের চেয়ে হিসাব-নিকাশ, লাভ-ক্ষতির সমীকরণ অনেক সময় বড় হয়ে ওঠে। যে স্বপ্ন একদিন মানুষকে পথ দেখিয়েছে, সেই স্বপ্নকেই অনেকেই নিজেদের প্রয়োজনে ব্যবহার করতে চাইবে—এমন নজির রাজনীতিতে নতুন নয়।
বাস্তবতা হলো, নাসির উদ্দীন চৌধুরী একজন বয়োবৃদ্ধ নেতা। বয়সের ভারে তিনি আজ নুয়ে পড়েছেন—এটি অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। এই বয়সে, এই সময় থেকে নতুন করে সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরে আসা সহজ নয়; বরং অনেকটাই কঠিন। তবুও ইতিহাস বলে, কিছু মানুষ ক্ষমতার মোহে নয়, বরং দায়বদ্ধতা ও আদর্শের জায়গা থেকে শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যান।
এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন একটাই—এই ঐক্য কি সত্যিকার অর্থেই আদর্শভিত্তিক ও জনস্বার্থকেন্দ্রিক হবে, নাকি আবারও কোনো গোষ্ঠীর স্বার্থসিদ্ধির সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহৃত হবে একজন প্রবীণ ও পরীক্ষিত জননেতার নাম? সময়ই দেবে এর উত্তর। তবে মানুষ চায়, এই ঐক্য যেন স্বার্থের নয়, বরং জনমানুষের প্রত্যাশার প্রতিফলন হয়।
