সিলেট-৫ আসনে ৮ দলীয় জোটের চূড়ান্ত প্রার্থী হচ্ছেন হাফিজ মাওলানা আনোয়ার হোসেন খান

 সিলেট-৫ আসনে ৮ দলীয় জোটের চূড়ান্ত প্রার্থী হচ্ছেন  হাফিজ মাওলানা আনোয়ার হোসেন খান


অবশেষে সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ–কানাইঘাট) আসনে ৮ দলীয় ইসলামী জোটের চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী হাফিজ মাওলানা আনোয়ার হোসেন খানকে ঘোষণা করা হচ্ছে বলে বিভিন্ন সুত্র  নিশ্চিত করছে। জোটের প্রার্থী হলে তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে অংশ নেবেন। সোমবার রাতে জাতীয় একটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমেও বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এই আসনে এখনো বিএনপি তাদের প্রার্থী ঘোষণা না করায় রাজনৈতিক অঙ্গনে কৌতূহল ও আলোচনা বাড়ছে। জামায়াতে ইসলামী সিলেট-৫ আসনটিকে দীর্ঘদিন ধরেই তাদের অন্যতম শক্তিশালী ও সম্ভাবনাময় আসন হিসেবে বিবেচনা করে আসছে।

স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, সিলেট-৫ আসন জামায়াতে ইসলামীর অন্যতম সুবিধাজনক আসন হিসেবে পরিচিত। ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ৪ দলীয় জোটের টিকিটে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

এবার নতুন মুখ হিসেবে এবং প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে নামছেন হাফিজ মাওলানা আনোয়ার হোসেন খান। তিনি বর্তমানে জামায়াতে ইসলামীর সিলেট জেলা আমির। তার বাড়ি কানাইঘাট উপজেলায়। গত কয়েক বছর ধরে তিনি নিয়মিতভাবে জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করে তৃণমূল পর্যায়ে গণসংযোগ বৃদ্ধি এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করে আসছেন। সর্বশেষ ৮ দলীয় ইসলামী জোটের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়ার মাধ্যমে তার প্রার্থিতা আনুষ্ঠানিক রূপ পায়।

আনোয়ার হোসেনের ঘনিষ্ঠজনেরা জানান, বন্যা ও বিভিন্ন দূর্যোগের সময় , শীতবস্ত্র বিতরণ, অসহায় ও নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো, মসজিদ ও মাদ্রাসার উন্নয়নসহ দীর্ঘদিনের মানবিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছেন। স্থানীয়দের সুখ-দুঃখে ও সামাজিক অনুষ্ঠানে তার ধারাবাহিক উপস্থিতি ভোটারদের আস্থার জায়গায় তাকে পৌঁছে দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে মাওলানা আনওয়ার হোসেন খান ইসলামী ছাত্রশিবিরের সিলেট ও মৌলভীবাজার জেলা শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়ে মৌলভীবাজার জেলা এবং সিলেট জেলা জামায়াতের উত্তর শাখার সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর টানা ১৫ বছর জেলা আমির হিসেবে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য এবং সিলেট জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

শিক্ষাক্ষেত্রেও তার রয়েছে সুদীর্ঘ ও গৌরবোজ্জ্বল অভিজ্ঞতা। প্রায় এক দশক মৌলভীবাজারের শাহ মোস্তফা একাডেমির প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি সিলেটের ঐতিহ্যবাহী শাহজালাল জামেয়া মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেছেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা, মেধাবৃত্তি প্রদান এবং শিক্ষার্থীদের মানোন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণের কারণে শিক্ষা অঙ্গনে তিনি একজন গ্রহণযোগ্য ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত।

ছাত্রজীবনে হিফজ সম্পন্ন করার পর দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামিল—প্রতিটি স্তরে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন আনোয়ার হোসেন খান। ফুলবাড়ি আজিরিয়া আলিয়া মাদ্রাসা এবং সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা থেকে কামিল (মাস্টার্স) ডিগ্রি অর্জনের মাধ্যমে তিনি একজন মেধাবী আলেম হিসেবেও পরিচিত।

Previous Post Next Post