বরুনার পীর মুফতি রশিদুর রহমান ফারুকের বক্তব্য বিকৃত করে প্রচারের অভিযোগ, কওমি অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া

 বরুনার পীর মুফতি রশিদুর রহমান ফারুকের বক্তব্য বিকৃত করে প্রচারের অভিযোগ, কওমি অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া

আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটারদের উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন সিলেটের বরুনার পীর আল্লামা মুফতি রশিদুর রহমান ফারুক। তিনি তার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে বলেন, “প্রার্থী আপনার পছন্দমতো দেবেন, তবে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ব্যালেটে ভোট দিন।”

তবে এ বক্তব্য প্রচারের ক্ষেত্রে একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিডিওর সঙ্গে সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও মিথ্যা একটি বাক্য সংযুক্ত করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে গত রাত থেকে সিলেটের কওমি অঙ্গনে এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

সমালোচকদের দাবি, প্রকাশিত ভিডিওতে স্পষ্টভাবে শোনা যায়—মুফতি রশিদুর রহমান ফারুক গণভোটের পক্ষে আহ্বান জানালেও প্রার্থীর বিষয়ে ভোটারদের স্বাধীন পছন্দের কথা বলেছেন। অথচ একটি মহল জামায়াত–এনসিপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি ইসলামী দলের প্রার্থীদের পক্ষে বক্তব্যকে ব্যবহার করতে গিয়ে ভিডিওর সঙ্গে সম্পূর্ণ অসত্য ও বানোয়াট একটি বাক্য যুক্ত করেছে। ওই সংযোজিত বক্তব্যে দাবি করা হচ্ছে—তিনি নাকি সমমনা ইসলামী দলের প্রার্থীদের বিবেচনায় রেখে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যা মূল ভিডিও বক্তব্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক।

তাদের আরও দাবি, বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে কোনো সমমনা ইসলামী রাজনৈতিক জোট বিদ্যমান নেই, এমনকি কোনো ঐক্যবদ্ধ ইসলামী জোটও গঠিত হয়নি। সে অবস্থায় একটি তথাকথিত রাজনৈতিক জোটের স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যেই এ ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

নেটিজেনদের মতে, জামায়াত–এনসিপি জোটের প্রার্থীদের পক্ষে সাধারণ মুসলমান ও কওমি ঘরানার মানুষকে প্রভাবিত করতে পরিকল্পিতভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ন্যারেটিভ তৈরি করা হচ্ছে। শুধু এই বক্তব্য নয়, সাম্প্রতিক সময়ে একই মহল কওমি ঘরানার অন্যতম বৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ এবং হেফাজতে ইসলামের বিরুদ্ধে কাল্পনিক বক্তব্য ও মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে সমাজে বিভাজন ও ঘৃণা উসকে দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

সচেতন মহলের আশঙ্কা, এ ধরনের অপতৎপরতার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্ম, ছাত্র সমাজ ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের বিভ্রান্ত করা হচ্ছে এবং সামগ্রিক ইসলামী অঙ্গনকে সমাজের সামনে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চলছে।

Previous Post Next Post