ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন

 

দীর্ঘ ৩৭ বছর ধরে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতৃত্বে থাকা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ১৯৩৯ সালে ইরানের মাশহাদ শহরে জন্ম নেওয়া এই নেতা আধুনিক ইরানের ইতিহাসে অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচিত।

১৯৬২ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি–এর নেতৃত্বে শুরু হওয়া ইসলামী আন্দোলনে যোগদানের মধ্য দিয়ে তার সক্রিয় রাজনৈতিক জীবনের সূচনা। পরবর্তীতে ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লব-এ তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। বিপ্লব-পরবর্তী সরকারে উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন এবং ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি) গঠনে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখেন।

১৯৮১ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৯ সালে খোমেনির মৃত্যুর পর তাকে দেশের সর্বোচ্চ নেতা (Supreme Leader) নির্বাচিত করা হয়। এরপর থেকে রাষ্ট্রক্ষমতা, সশস্ত্র বাহিনী ও গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী কাঠামোর ওপর তার দৃঢ় নিয়ন্ত্রণ বজায় ছিল। তার শাসনামলে একাধিক প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব পালন করলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা সর্বদা সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়ের হাতেই কেন্দ্রীভূত ছিল।

পররাষ্ট্রনীতিতে তিনি কঠোর ও আপসহীন অবস্থানের জন্য পরিচিত। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রইসরায়েল-এর প্রতি তার অবস্থান বরাবরই দৃঢ় ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি উঠেছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় তিনি নিহত হয়েছেন—তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

ব্যক্তিগত জীবনে ছয় সন্তানের জনক এই নেতা ইরানের রাজনীতিতে এক দীর্ঘ যুগের প্রতীক হয়ে ছিলেন। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তার প্রতিটি সিদ্ধান্তই আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে।

Previous Post Next Post