সব জল্পনার অবসান, নির্বাচনে মাঠে নামছে জিএম কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি।

 সব জল্পনার অবসান, নির্বাচনে মাঠে নামছে জিএম কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি (জাপা) অংশ নেবে কি না—এ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা ও জল্পনা চলছিল। তবে সব অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জিএম কাদেরের নেতৃত্বাধীন দলটি। এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন আসনে প্রার্থী ঘোষণা শুরু করেছে জাতীয় পার্টি।
সিলেট অঞ্চলে দীর্ঘদিন নীরব থাকার পর হঠাৎ করেই ভোটের মাঠে সক্রিয় হয়ে উঠেছে জাপা। ইতোমধ্যে সিলেটের চারটি সংসদীয় আসনে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি আরেকটি আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন দলটির একজন প্রভাবশালী নেতা। ফলে সিলেটের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনায় এসেছে জাতীয় পার্টি।
আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত জাতীয় পার্টির বিরুদ্ধে অতীতে শেখ হাসিনার সরকারকে সহযোগিতা করে কর্তৃত্বপরায়ণ শাসন দীর্ঘায়িত করার অভিযোগ রয়েছে। তবে এবারের নির্বাচনে সরাসরি অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় ভোটের মাঠে দলটির প্রতি রাজনৈতিক মহলের সতর্ক দৃষ্টি থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষ করে আওয়ামী লীগের সমর্থক ভোট জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা কতটা নিজেদের দিকে টানতে পারেন, তার ওপর অনেক আসনের ফলাফল নির্ভর করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সিলেটে জাপার প্রার্থীরা
বিগত কয়েক দিনে জিএম কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি সিলেটের চারটি আসনে দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। বাকি দুটি আসনের প্রার্থীও প্রায় চূড়ান্ত বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
সিলেট-১ (নগর-সদর) আসনে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য মকসুদ ইবনে আজিজ লামা। তিনি ১৯৯১ সালে সিলেট-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা-ফেঞ্চুগঞ্জ-বালাগঞ্জ) আসনে দলটির মনোনীত প্রার্থী হয়েছেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য আতিকুর রহমান আতিক। এর আগে তিনি এ আসন থেকে নির্বাচন করলেও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে পারেননি।
সিলেট-৪ (কোম্পানীগঞ্জ-জৈন্তাপুর-গোয়াইনঘাট) আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন ছাত্র সমাজের সাবেক জেলা সভাপতি ও দলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মুজিবুর রহমান ডালিম।
সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ-কানাইঘাট) আসনে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে দলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুদ্দিন খালেদকে। তিনি এর আগে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিলেও এবারই প্রথম সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এদিকে জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের সাবেক বিরোধী দলীয় হুইপ সেলিম উদ্দিন সিলেট-৫ ও সিলেট-৬ আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। তবে সিলেট-৫ আসনে ইতোমধ্যে প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ায় তিনি সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) আসন থেকে প্রার্থী হতে পারেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে তিনি সিলেট-৫ আসন থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
তবে সিলেট-২ আসনে এখনো জাতীয় পার্টির কোনো প্রার্থী ঘোষণা করা হয়নি। এ আসনে জাপার একটি অংশ ও জেপির সমন্বয়ে গঠিত জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে ইয়াহইয়া চৌধুরী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জানা গেছে।
বদলাতে পারে নির্বাচনী সমীকরণ
দীর্ঘদিন ধরে সিলেট অঞ্চলে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীদের মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা সীমাবদ্ধ ছিল। তবে এবারে জাতীয় পার্টির অংশগ্রহণ সেই সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা এবার তাদের সাবেক জোটসঙ্গী আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য সমমনা ও নিরপেক্ষ ভোটারদের লক্ষ্য করে মাঠে নামবেন। একাধিক জাপা প্রার্থীর দাবি, দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটে থাকার কারণে দলটির সমর্থক ও সাধারণ ভোটারদের একটি অংশ লাঙ্গল প্রতীকে ভোট দিতে পারেন।
ভোটারদের একাংশের ধারণা, জাতীয় পার্টির সক্রিয় অংশগ্রহণ নির্বাচনী অঙ্ক পাল্টে দিতে পারে। বিশেষ করে যদি দলটি আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক কিংবা নিরপেক্ষ ভোট নিজেদের পক্ষে নিতে সক্ষম হয়, তবে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীদের জন্য তা চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
জাপার প্রস্তুতি
এ বিষয়ে সিলেট জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি সাব্বির আহমদ বলেন, প্রার্থী ঘোষণা কিছুটা দেরিতে শুরু হলেও মাঠ পর্যায়ে দলটির প্রস্তুতি রয়েছে। মনোনয়নপত্র দাখিলের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে সব প্রার্থী একযোগে প্রচারণায় নামবেন।
তিনি আরও বলেন, “জাতীয় পার্টি তার নিজস্ব সাংগঠনিক শক্তি নিয়ে নির্বাচন করবে। আওয়ামী লীগের সমর্থকরা লাঙ্গল প্রতীকে ভোট দেবেন কি না, সেটি সম্পূর্ণ তাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।
Previous Post Next Post