সুনামগঞ্জের তাহিরপুর-বাদাঘাট সড়কের বেহাল অবস্থা, বছর পেরিয়ে গেলেও ঠিকাদার কাজ শুরু করেননি।

সুনামগঞ্জের  তাহিরপুর-বাদাঘাট সড়কের বেহাল অবস্থা, বছর পেরিয়ে গেলেও ঠিকাদার কাজ শুরু করেননি.।



কাজের টেন্ডার পাওয়ার পর বছর খানেক অতিবাহিত হলেও তাহিরপুর-বাদাঘাট সড়কে কোন প্রকার কাজ শুরু করেনি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। কবে কাজ শুরু করবে তারও কোন সঠিক তথ্য নেই তাহিরপুরের স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিইডিতে।
এমনই অভিযোগ উঠেছে তাহিরপুর-বাদাঘাট সড়কের একাংশের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স জামিল ইকবাল এর বিরুদ্ধে।

উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিইডি তাহিরপুর সূত্রে জানা যায়, তাহিরপুর-বাদাঘাট উড়াল সড়ক প্রকল্পে তাহিরপুর উপজেলা সদর থেকে পাতারগাও হোসনারঘাট পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার সড়কে কাজ পায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সিলেট নগরীর শিবগঞ্জের মেসার্স জামিল ইকবাল। ৬৮ কোটি ৯৮ লক্ষ ৩৬ হাজার ৬ শত ৯৯ টাকার চুক্তি মুল্যে ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ সালে সড়কে কাজ শুরু এবং ২০২৬ সালের ১১ ডিসেম্বর-এর মধ্যে কাজ সমাপ্ত কারার কথা। কিন্তু কার্যাদেশ পাওয়ার পর প্রায় বছর অতিবাহিত হলেও সড়কে কোন প্রকার কাজ শুরু করেনি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স জামিল ইকবাল।

গত রোববার সরেজমিন তাহিরপুর-বাদাঘাট সড়কে তাহিরপুর সদর থেকে হোসনাঘাট পর্যন্ত গিয়ে দেখা যায়, কাজ করার জন্য কোন প্রকার মালামাল বালি,পাথর,ইট, রড, সিমেন্ট চোখে পড়েনি। সে সময় স্থানীয় সড়ক সংলগ্ন সুর্যেরগাও, জামালগড়, ঠাকাটুকিয়া গ্রামের একাধিক লোকজনের সাথে কথা হলে তারা জানান, তারা শুনছেন গত বছর এ সড়কের কাজের টেন্ডার হয়েছে কিন্তু এখন পর্যন্ত ঠিকাদার কাজ করার জন্য সাইটে কোন মালামালই আনেননি। তাই তারা এ বছরও সড়কের কাজটা শুরু হবে কি না তা নিয়ে সন্দিহান হয়ে পড়েছেন।

বাদাঘাট বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হারুনর রশিদ বলেন, তাহিরপুর বাদাঘাট সড়কটি উপজেলার মধ্যে খুবই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। ১০ কিলোমিটার সড়কে দু’টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ পেয়েছে। একটি অংশের কাজ চলমান আছে। অপর একটি অংশের কাজ এখনো শুরু হয়নি। সড়কে কাজ সমাপ্ত হলেও উপজেলা সদরের সাথে বাদাঘাট বাজারের ব্যবসা কেন্দ্রিক প্রসারতা আরো বৃদ্ধি পাবে। তাই দ্রুত কাজটি সমাপ্ত করার দাবি জানাচ্ছি।

বড়দল উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কাশেম বলেন, উপজেলা সদরের সাথে ৪টি ইউনিয়নের একমাত্র সড়ক তাহিরপুর-বাদাঘাট সড়ক। এ সড়ক পথ ধরে উপজেলা সদরে প্রতিদিন হাজার হাজার লোকজন যাতায়াত করে থাকেন। শুনেছি দু’বছর সময় সীমার মধ্যে সড়কের কাজ সমাপ্ত করে দেয়ার কথা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের। কিন্তু ইতি মধ্যে বছর খানেক হয়ে গেলো তারা কোন কাজই শুরু করেনি।

এবিষয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী জামিল ইকবালের সাথে কোন প্রকার যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে তাহিরপুরে দায়িত্বরত তাদের প্রজেক্ট ম্যানেজার শফিকুল ইসলাম জানান, ডিজাইন পরিবর্তনের জন্য তারা আবেদন করেছেন। ডিজাইন পরিবর্তন হলে দ্রুতই কাজ শুরু করবেন।
তাহিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) জাহিদুল ইসলাম বলেন, কার্যাদেশ পাওয়ার পর অনেকদিন অতিবাহিত হয়ে গেলেও এখনো কোন কাজ শুরু করেনি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। এমনকি কোন মালামাল এখন পর্যন্ত সাইটে চোখে পড়েনি।

এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী (সুনামগঞ্জ) আনোয়ার হোসেন বলেন, ডিজাইন পরিবর্তনের জন্য পিডি বরাবর একটি আবেদন দিয়েছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। কিন্তু আমার মনে হয় না এ ডিজাইন পরিবর্তন হবে। শুধু সময় ক্ষেপনই হবে,অন্য কিছু হবে না বলেও তিনি জানান।
Previous Post Next Post