ক্ষমতায় গেলে শরিয়া আইন প্রতিষ্ঠা করব না—জামায়াত আমীরের বক্তব্য শরিয়ার প্রতি ধৃষ্টতা: মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী

 

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী বলেছেন, ইসলামী রাজনীতির মূল লক্ষ্যই হলো ক্ষমতায় গেলে শরিয়া আইন প্রতিষ্ঠা করা। ক্ষমতায় গিয়ে শরিয়া আইন প্রতিষ্ঠা করা হবে না—জামায়াত আমীরের এমন বক্তব্য শরিয়া আইনের প্রতি চরম ধৃষ্টতার শামিল।

আজ এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ মোস্তফা ﷺ থেকে শুরু করে খোলাফায়ে রাশেদীন শরিয়া আইনের ভিত্তিতেই রাষ্ট্র পরিচালনা করে গেছেন। পরবর্তীকালে বহু আমীর ও শাসকও রাষ্ট্র পরিচালনায় শরিয়া আইন অনুসরণ করেছেন। সে ঐতিহাসিক বাস্তবতার বিপরীতে গিয়ে জামায়াত আমীরের এ ধরনের বক্তব্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী আরও বলেন, দেশ-বিদেশের আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের শীর্ষ উলামায়ে কেরাম দীর্ঘদিন ধরে জামায়াতের প্রতিষ্ঠাতার ভ্রান্ত আকীদা ও দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে মুসলিম উম্মাহকে সতর্ক করে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমান আমীরের এমন বক্তব্য ইসলামের নাম ব্যবহার করে জনগণের সঙ্গে প্রতারণায় লিপ্ত থাকারই প্রমাণ বহন করে।

তিনি বলেন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ যেমন কোনো সেক্যুলার ব্যক্তি কর্তৃক এ ধরনের বক্তব্যের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিবাদ জানায়, তেমনি ইসলামের পরিচয় বহনকারী কোনো দল বা ব্যক্তি যখন এ ধরনের বক্তব্য দেয়, তখন দেশবাসীকে সতর্ক করা আরও বেশি জরুরি হয়ে পড়ে।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি ইসলামী দল জামায়াতকে নিয়ে বৃহত্তর ইসলামী প্ল্যাটফর্ম গঠনের মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। আসন ভাগাভাগি নিয়ে কিছুটা অসন্তোষ থাকলেও আদর্শিক বিষয়ে তাদের পক্ষ থেকে এখনো সুস্পষ্ট অবস্থান পরিলক্ষিত হয়নি।

এমন পরিস্থিতিতে দেশবাসীকে এসব বিষয় সম্পর্কে সচেতন ও সতর্ক থাকার জন্য পুনরায় আহ্বান জানাচ্ছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ—বলেন মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী।

Previous Post Next Post