নির্বাচন করবো না—এমন কোনো প্রতিশ্রুতি দিইনি: উবায়দুল্লাহ ফারুক


 সিলেট–৫ (কানাইঘাট–জকিগঞ্জ) আসনের বিএনপি–জমিয়ত জোট মনোনীত প্রার্থী জননেতা মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক বলেছেন, তিনি কখনোই ভবিষ্যতে নির্বাচন করবেন না—এমন কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি। বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচার চালানো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জকিগঞ্জ উপজেলার বারহাল ইউনিয়নে একটি নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। বক্তব্যের শুরুতে তিনি ২০১৮ সালের নির্বাচনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, ওই সময় তার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কোনো পরিকল্পনাই ছিল না। এমনকি তিনি দলীয় মনোনয়ন ফরমও সংগ্রহ করেননি।

তিনি জানান, হঠাৎ মাদ্রাসা বন্ধ হওয়ার পর তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং চিকিৎসকরা পিত্তথলিতে পাথর ধরা পড়ার কথা জানিয়ে দ্রুত অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেন। অপারেশনের পর প্রায় দুই সপ্তাহ তিনি হাসপাতালে শয্যাশায়ী ছিলেন। ঠিক সেই সময়েই তিনি জানতে পারেন, জোটের পক্ষ থেকে তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

উবায়দুল্লাহ ফারুক বলেন, তিনি নিজেই যখন জানতেন না যে তিনি মনোনয়ন পাচ্ছেন, তখন কার সঙ্গে কবে বসে কোনো সিদ্ধান্ত বা প্রতিশ্রুতি দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। ‘নির্বাচন করবো না’—এমন বক্তব্য কোথা থেকে এলো, তা নিয়েই তিনি প্রশ্ন তোলেন।

চলমান নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুরুতে তাদের দল প্রায় ১৫০টি আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েছিল। পরে বিএনপির সঙ্গে জোট গঠিত হয়। আসন বণ্টন নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা শেষে দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে তারা অধিকাংশ আসন ছেড়ে দেন এবং মাত্র চারটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

তিনি আরও বলেন, ব্যক্তিগতভাবে তিনি ভেবেছিলেন অন্য কোনো আসন পেলে রাজনৈতিকভাবে তা আরও সুবিধাজনক হতে পারত। তবে শেষ পর্যন্ত জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে সিলেট–৫ আসনেই মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

সমালোচকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এই আসন বণ্টন নিয়ে যদি কারও আপত্তি থাকে, তাহলে তা সংশ্লিষ্ট দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত। জোট না হলে তারাও যে নির্বাচনের বাইরে থাকতেন না—সে কথাও তিনি স্পষ্ট করেন। একই সঙ্গে দেশকে কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি ভাবার মানসিকতার সমালোচনা করেন তিনি।

বক্তব্যের শেষাংশে তিনি ঐক্যের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, যেহেতু জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রার্থী নির্ধারিত হয়েছে, তাই সবাইকে একসাথে কাজ করে বিজয় নিশ্চিত করতে হবে। ভবিষ্যতে বিএনপির নেতৃত্বেই দেশ চলবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং বলেন, সময়ের সঙ্গে নতুন নেতৃত্ব সামনে আসবে, তখন অভিজ্ঞরা সহযোগী শক্তি হিসেবে পাশে থাকবেন।

সবশেষে তিনি দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণতন্ত্র ও দেশের স্বার্থে কাজ করার আহ্বান জানান।

Previous Post Next Post