দলীয় সিদ্ধান্তে সিলেট-৫ আসনে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন নুরুজ্জামান জামান
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ–কানাইঘাট) আসনে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি নেতা, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মো. নুরুজ্জামান জামান।
রোববার এক বিবৃতিতে তিনি জানান, দলীয় সিদ্ধান্ত ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনার প্রতি পূর্ণ আনুগত্য প্রকাশ করে তিনি এ আসনে নির্বাচন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিবৃতিতে তিনি বলেন,
“রাজনীতিতে ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, আর দলের চেয়ে দেশ—এই নীতিকে সর্বাগ্রে গুরুত্ব দিয়েই আমি দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছি।”
নুরুজ্জামান জামান বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত থেকে মাটি ও মানুষের পক্ষে কাজ করে আসছেন। ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক গণআন্দোলন পর্যন্ত তিনি মাঠে ও গণমাধ্যমে বিএনপির পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
তিনি আরও বলেন, বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণেই ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ে তাকে দীর্ঘ ১৪ বছর ৫ মাস দেশের বাইরে নির্বাসিত জীবন কাটাতে হয়েছে। হুমকি, মামলা, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হলেও দলের আদর্শ ও নীতি থেকে তিনি কখনো বিচ্যুত হননি।
বিবৃতিতে তিনি জানান, বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে বিএনপি সিলেট-৫ আসনে জোট শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুককে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সে কারণেই তিনি ব্যক্তিগতভাবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও শেষ পর্যন্ত নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
জকিগঞ্জ–কানাইঘাটবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে নুরুজ্জামান জামান বলেন,
“এই জনপদের প্রতিটি মানুষই আমার আপনজন। নির্বাচন না করলেও আজীবন এ এলাকার মানুষের পাশে থেকে অধিকার আদায়, ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সক্রিয় থাকব।”
বিবৃতির শেষাংশে তিনি দেশবাসী ও এলাকাবাসীর শান্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করে দোয়া করেন।
উল্লেখ্য, মো. নুরুজ্জামান জামান শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (শাকসু) সাবেক জিএস। বর্তমানে তিনি একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক, কলামিস্ট ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত।
