বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ নির্বাচনের মাঠে দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে শিগগিরই সমাধান আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তাদের বোঝিয়ে শান্ত করার চেষ্টা চলছে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “আমরা ইতিমধ্যে সাংগঠনিক পদক্ষেপ নিয়েছি এবং বিদ্রোহী প্রার্থীদের ডেকে বোঝানোর চেষ্টা করছি। একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলে অনেক প্রার্থীর প্রত্যাশা থাকে। কেউ কেউ তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী মনোনয়ন পাননি। বৃহত্তর স্বার্থে আসন সমঝোতা এবং সংসদে বহুদলীয় প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে গিয়ে অনেক যোগ্য প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে কারও কারও মধ্যে মনঃকষ্ট আছে। কোথাও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, আবার কোথাও বোঝানোর চেষ্টা চলছে। আশা করি বিষয়টির মীমাংসা হয়ে যাবে।”
তারেক রহমানের উত্তরাঞ্চল সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই সফরের মূল উদ্দেশ্য শহীদদের কবর জিয়ারত করা, যেখানে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের কোনো সুযোগ নেই।
তনি আরও বলেন, “২০২৪ সালের ছাত্র গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান অনেক আগেই তা করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু বিভিন্ন কারণে সম্ভব হয়নি। এখন সেই সুযোগ এসেছে।”
সালাহউদ্দিন আহমদ জানালেন, গনঅভ্যুত্থানের শহীদদের কবর জিয়ারত ও পুষ্পমাল্য অর্পণের মাধ্যমে তাদের আত্মত্যাগকে সম্মান জানানো হবে এবং এটিকে নির্বাচনি কার্যক্রম হিসেবে দেখার কোনো সুযোগ নেই। বরং এটি জাতির প্রত্যাশা পূরণের অংশ।
তিনি সবাইকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, “২০২৪ সালের ছাত্র গণঅভ্যুত্থানের মর্যাদা যেন কোনোভাবেই প্রশ্নবিদ্ধ না করা হয় এবং শহীদদের আত্মত্যাগকে জাতীয় পর্যায়ে আরও মহিমান্বিত করা হয়।”
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও জানান, আগামী ১১ জানুয়ারি তারেক রহমান ঢাকা থেকে সড়কপথে বগুড়ার উদ্দেশে রওনা দেবেন। সফরকালে তিনি রংপুরে ২০২৪ সালের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানে নিহত আবু সাঈদসহ অন্যান্য শহীদের কবর জিয়ারত করবেন।
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ইনশাল্লাহ, সব রাজনৈতিক দলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় আমরা খুব সহজেই এই নির্বাচনি বৈতরণি পার হতে পারব। এখন সব দলই একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের বিষয়ে আন্তরিক।”
তিনি আরও বলেন, “নির্বাচন নিয়ে কারো কোনো অভিযোগ বা দাবি থাকলে তা নির্বাচন কমিশনের কাছে উপস্থাপন করা উচিত। নির্বাচন কমিশন ও সরকার সম্মিলিতভাবে সেগুলো সমাধান করবে বলে আমি আশাবাদী। এখন সব রাজনৈতিক দল একটি জায়গায় এসে পৌঁছেছে—জনগণও চায় একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন।
