শান্তিগঞ্জে হাওরের ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার কাজ উদ্বোধনেই সীমাবদ্ধ নির্ধারিত সময়ের ২০ দিন পেরোলেও শুরু হয়নি অধিকাংশ প্রকল্পের কাজ

 শান্তিগঞ্জে হাওরের ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার কাজ উদ্বোধনেই সীমাবদ্ধ

নির্ধারিত সময়ের ২০ দিন পেরোলেও শুরু হয়নি অধিকাংশ প্রকল্পের কাজ


সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলায় হাওরের ফসল রক্ষায় বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার কাজ কার্যত উদ্বোধনেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। সরকার নির্ধারিত সময় পার হয়ে ২০ দিন অতিবাহিত হলেও অধিকাংশ প্রকল্পে এখনো কাজ শুরু হয়নি। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি)-এর পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ ও কার্যাদেশ প্রদান না করায় কাজ শুরু করা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। এ অবস্থায় সময়মতো বাঁধ নির্মাণ না হওয়ায় আবারও ফসলহানির আশঙ্কায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন হাওর এলাকার কৃষকেরা।

স্থানীয় কৃষক, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, হাওরের ফসল রক্ষায় প্রতিবছর নিয়ম অনুযায়ী ১৫ ডিসেম্বর বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার কাজ শুরু করে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ করার বিধান রয়েছে। সে অনুযায়ী গত ১৫ ডিসেম্বর শান্তিগঞ্জ উপজেলার খাই হাওরের সদরপুর ব্রিজের ‘কাড়া বন্ধকরণ’ প্রকল্পের বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও হাওরের ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ শাহজাহান।

তবে উদ্বোধনের পর নিয়মরক্ষার কিছু কার্যক্রম ছাড়া উপজেলার দেখার হাওর, খাই হাওর, কাঁচি ভাঙা হাওর, জামখলা হাওরসহ অন্যান্য হাওরের কোনো প্রকল্পেই দৃশ্যমান কাজ শুরু হয়নি বলে জানান স্থানীয়রা।

চলতি মৌসুমে শান্তিগঞ্জ উপজেলার দেখার হাওর, খাই হাওর, জামখলা, সাংহাই হাওর, কাঁচি ভাঙা হাওর ও কাউয়াজুরী হাওরে মোট ৬৭টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) মাধ্যমে প্রায় ১২ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪৬ দশমিক ৭৫৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার কাজ করার কথা রয়েছে। যদিও ৬৭টি পিআইসি নির্বাচন করা হয়েছে, তবে এখনো পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা প্রকাশ করতে পারেনি পানি উন্নয়ন বোর্ড ও উপজেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে কোনো পিআইসিকে আনুষ্ঠানিক কার্যাদেশ না দেওয়ায় তারা কাজ শুরু করতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

১৫ ডিসেম্বর উদ্বোধন হওয়া প্রকল্পের পিআইসি সভাপতি রায়হান আহমদ বলেন, “পানি উন্নয়ন বোর্ডের তদারকি ও নির্দেশনা অনুযায়ী আমার প্রকল্পের প্রায় ৬০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে এখনো কার্যাদেশ পাইনি। কার্যাদেশ পেলে দ্রুত বাকি কাজ শেষ করে দেব।”

এদিকে বিলম্বে ক্ষোভ প্রকাশ করে হাওর বাঁচাও আন্দোলন শান্তিগঞ্জ উপজেলা কমিটির সভাপতি আবু সাইদ বলেন, “ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধের কাজে এ ধরনের গাফিলতি অত্যন্ত দুঃখজনক। চলতি বছর শান্তিগঞ্জে ৬৭টি পিআইসির পূর্ণাঙ্গ তালিকা এখনো চূড়ান্তভাবে প্রকাশ করা হয়নি। কাজ শুরুর ২০ দিন পার হলেও কার্যাদেশ দিতে না পারার দায় পানি উন্নয়ন বোর্ড ও উপজেলা কমিটিকে নিতে হবে।”

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী কামরুজ্জামান মোহান বলেন, “৬৭টি পিআইসির মধ্যে এখনো ৭টি কমিটি চূড়ান্ত হয়নি। এখন পর্যন্ত কোনো পিআইসিকে আনুষ্ঠানিক কার্যাদেশ দেওয়া হয়নি। তবে আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে কার্যাদেশ প্রদান করা হবে।” তিনি দাবি করেন, “ইতোমধ্যে প্রায় ৫০টির মতো বাঁধে আংশিকভাবে কাজ শুরু হয়েছে।”

তবে স্থানীয় কৃষকদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যাদেশ ও পূর্ণাঙ্গভাবে কাজ শুরু না হলে আগাম বন্যা বা পাহাড়ি ঢলে আবারও হাওরের বোরো ফসল মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে।

Previous Post Next Post