বিএনপির সঙ্গে আসন সমঝোতার ভিত্তিতে নির্বাচনী নির্দেশনা জারি করল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম

 বিএনপির সঙ্গে আসন সমঝোতার ভিত্তিতে নির্বাচনী নির্দেশনা জারি করল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম


আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সঙ্গে আসন সমঝোতার ভিত্তিতে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনায় দলীয় নেতাকর্মীদের জন্য জরুরি দিকনির্দেশনা জারি করেছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ। সমঝোতার আওতায় নির্ধারিত আসনগুলোতে জোট প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করতে সাংগঠনিক ঐক্য, শৃঙ্খলা ও নিয়মতান্ত্রিক রাজনৈতিক তৎপরতা জোরদারের আহ্বান জানানো হয়েছে।

দলীয় সূত্র জানায়, বিএনপির সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতার আলোকে সর্বাধিক চারটি আসনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ প্রার্থী দিচ্ছে। এসব আসনে বিএনপি নিজস্ব কোনো প্রার্থী দেবে না। একইভাবে সমঝোতার আওতাভুক্ত অন্যান্য আসনগুলোতে জমিয়তও দলীয় প্রার্থী দেবে না। উভয় দল যৌথভাবে জোট প্রার্থীদের বিজয়ের লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করবে।

জমিয়তের কেন্দ্রীয় নির্বাচন মনিটরিং সেলের পক্ষ থেকে জেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের উদ্দেশে পাঠানো নির্দেশনায় বলা হয়, ঐতিহাসিক এই রাজনৈতিক সমঝোতার সফল বাস্তবায়নের জন্য জাতীয় ও দলীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে নির্বাচনী তৎপরতা পরিচালনা করতে হবে। নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে ভারসাম্যপূর্ণ নীতি, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও ইসলামী নৈতিকতা বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়, নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে নির্বাচন আইন ও আচরণবিধির প্রতি কঠোরভাবে শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে। কোনো অবস্থাতেই আইন লঙ্ঘনের সুযোগ নেই। প্রতিপক্ষের উস্কানিমূলক বক্তব্য বা আচরণের জবাবে ধৈর্য ও সহনশীলতার পরিচয় দেওয়ার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি হলে প্রশাসনের সহায়তা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া জেলা পর্যায়ে জমিয়তের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের প্রয়োজনীয় দায়িত্বশীলদের নিয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে সমন্বয় সভা করার আহ্বান জানানো হয়। সেই অনুযায়ী মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম পরিচালনা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে নেতাকর্মীদের নির্বাচনকেন্দ্রিক কমিটিতে সম্পৃক্ত করা এবং প্রতিটি আসনে সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সক্রিয় উপস্থিতি নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে।

নির্দেশনায় আরও উল্লেখ করা হয়, নির্বাচনী প্রচারণায় ইসলামের চারিত্রিক আদর্শ ও জমিয়তের নৈতিক স্বকীয়তা অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। সংগঠন ব্যবহার করে কেউ যেন ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করতে না পারে—সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের নির্বাচন মনিটরিং সেলের আহ্বায়ক মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী জানান, সমঝোতার ভিত্তিতে যেসব আসনে জমিয়তের দলীয় প্রার্থী রয়েছে, সেসব আসনের বিজয় নিশ্চিত করতে নেতাকর্মীদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে হবে। বিশেষ প্রয়োজনে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা মনিটরিং সেলের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারবেন বলে তিনি জানান।

উল্লেখ্য, নির্বাচনকালীন সার্বিক কার্যক্রম তদারকির জন্য গঠিত নির্বাচন মনিটরিং সেলে সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বাহাউদ্দীন যাকারিয়া।

Previous Post Next Post