ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট বিভাগে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। বিভাগের ১৯টি আসনের মধ্যে ১৮টিতে জয় পাওয়ায় দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে যেমন উচ্ছ্বাস, তেমনি সাধারণ মানুষের মধ্যে শুরু হয়েছে সম্ভাব্য মন্ত্রীসভা নিয়ে জোর আলোচনা। অপরদিকে শরিক দল খেলাফত মজলিস একটি আসনে জয় পেয়েছে।
নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই সিলেটজুড়ে প্রশ্ন—এই অঞ্চল থেকে কারা স্থান পাচ্ছেন নতুন মন্ত্রীসভায়? রাজনৈতিক অঙ্গনে ঘুরপাক খাচ্ছে অন্তত সাত নেতার নাম। এর মধ্যে তিন থেকে চারজন মন্ত্রীসভায় জায়গা পেতে পারেন বলে ধারণা স্থানীয়দের।
ইতিপূর্বে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারে সিলেটের একাধিক প্রভাবশালী মন্ত্রী দায়িত্ব পালন করেছেন। এবার তারেক রহমান–এর নেতৃত্বে সরকার গঠিত হলে সিলেট থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধিত্ব থাকবে—এমন প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্ত্রীত্বের আলোচনায় যাদের নাম শোনা যাচ্ছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ূন কবীর, সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, সিলেট-৪ আসনের বিজয়ী আরিফুল হক চৌধুরী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ–এর কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, হবিগঞ্জ-১ আসনের ড. রেজা কিবরিয়া, হবিগঞ্জ-৩ আসনের জি কে গৌছ এবং সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ূম চৌধুরী।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, হুমায়ূন কবীরকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে দেখা যেতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে। সিলেট-১ আসন ঐতিহ্যগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের নামও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় রয়েছে। একইভাবে সিলেট-৪ আসনের আরিফুল হক চৌধুরীও আলোচনার কেন্দ্রে আছেন।
অন্যদিকে সিলেট-৫ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হলেও মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুককে সম্ভাব্য ধর্মমন্ত্রী হিসেবে দেখছেন তার সমর্থকরা। স্থানীয়দের মতে, দলীয় বিভাজন না হলে ফল ভিন্ন হতে পারত। তবু জোট রাজনীতির সমীকরণে তার নাম আলোচনায় রয়েছে।
হবিগঞ্জ থেকে নির্বাচিত ড. রেজা কিবরিয়া ও জি কে গৌছের নামও মন্ত্রীত্বের সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে। পাশাপাশি টেকনোক্র্যাট কোটায় আবদুল কাইয়ূম চৌধুরীর নামও আলোচিত হচ্ছে। তিনি অতীতে অর্থ ও পরিকল্পনা খাতে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন এবং দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
সিলেটে অভাবনীয় জয়ের ফলে এবার মন্ত্রীসভায় শক্ত অবস্থান চাইছেন এ অঞ্চলের মানুষ। চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণার আগ পর্যন্ত রাজনৈতিক অঙ্গনে জল্পনা-কল্পনা অব্যাহত থাকবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
.png)