আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ–কানাইঘাট) আসনের ভোটারদের কাছে গুরুত্ব পাচ্ছে বিএনপি–জমিয়ত জোট মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ফারুকের বহুমুখী উন্নয়ন পরিকল্পনা। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নসহ মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ এবং জকিগঞ্জ–কানাইঘাটকে একটি আধুনিক ও উন্নত জনপদে রূপান্তরের লক্ষ্যে তিনি বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরছেন।
নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে প্রতিদিন পথসভা, গণসংযোগ ও মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে ভোটারদের সামনে নিজের উন্নয়ন ভাবনা তুলে ধরছেন মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ফারুক। সচেতন নাগরিকদের মতে, এই আসনকে ঘিরে তিনি সুপরিকল্পিত ও দীর্ঘমেয়াদি চিন্তাভাবনা নিয়ে এগোচ্ছেন।
শিক্ষা খাতে তাঁর পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে—বিদ্যমান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মানসম্মত ভবন নির্মাণ ও সংস্কার, পর্যাপ্ত ও মানসম্পন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন, বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ, কারিগরি ও দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা, স্কুল-কলেজে ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্ব বৃদ্ধি এবং মাদরাসা শিক্ষাকে যুগোপযোগী করা। পাশাপাশি মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা চালু, মেধাবী ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষা ও বৃত্তি প্রদান, শিক্ষার্থীদের নামাজের জন্য আলাদা সুব্যবস্থা এবং নারীদের জন্য স্বতন্ত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কথাও রয়েছে তাঁর পরিকল্পনায়।
জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়নে তিনি সরকারি হাসপাতালসমূহ দুর্নীতিমুক্ত করে শতভাগ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেছেন। উপজেলা সদর হাসপাতাল ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মানসম্মত চিকিৎসা, জরুরি অ্যাম্বুলেন্স ও মাতৃসেবা জোরদার, বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার ওষুধ জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া এবং প্রসূতি মায়েদের জন্য নিরাপদ ডেলিভারির ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান তিনি। নারী বিষয়ক চিকিৎসা ব্যবস্থাকে নারীবান্ধব করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে বুরহানুদ্দিন রোড, জকিগঞ্জ–শেওলা জিরো পয়েন্ট রোড, গাছবাড়ী–হরিপুর রোড ও চতুল–শাহবাগ রোড প্রশস্ত ও টেকসইভাবে সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি লক্ষ্মীপ্রসাদ ও গাছবাড়ীতে নতুন ব্রিজ নির্মাণ, প্রত্যন্ত এলাকায় নতুন সড়ক নির্মাণ, গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত সুলভ গণপরিবহন চালু এবং স্বতন্ত্র পার্কিং ব্যবস্থার কথাও রয়েছে তাঁর পরিকল্পনায়।
কৃষি উন্নয়নে অনাবাদ জমি চাষের আওতায় আনা, সার ও সেচ সুবিধা ন্যায্যমূল্যে নিশ্চিত করা, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দ্রুত সহায়তা প্রদান, সহজ শর্তে আধুনিক কৃষিযন্ত্র ও কৃষিঋণ এবং কৃষকদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালুর কথা বলেন তিনি।
নদী ভাঙন ও পানি ব্যবস্থাপনায় সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর ভাঙনকে জাতীয় ইস্যু হিসেবে চিহ্নিত করা, ডাইক নির্মাণ ও ব্লক ফেলে ভাঙন রোধ, নিয়মিত খননের মাধ্যমে নদী ও খাল-বিল সচল রাখা, সুইস গেট নির্মাণ, বন্যা কবলিত এলাকায় উঁচু ও স্বাস্থ্যসম্মত আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, সময়মতো ত্রাণ বিতরণ এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে পরিকল্পিত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থার কথা তুলে ধরেন তিনি।
সামাজিক ও রাজনৈতিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সকল মত ও পথের মানুষের ভিন্নমত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রাখা, হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা রোধ, উভয় উপজেলায় পুলিশ চৌকির সংখ্যা বৃদ্ধি, গুম-খুন ও চাঁদাবাজি বন্ধ করে সুস্থ ধারার রাজনীতির পরিবেশ তৈরি এবং নিয়মতান্ত্রিক সভা-সেমিনারের জন্য দুটি অডিটোরিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। এছাড়া স্থানীয় মুরব্বি, আলেম ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গ্রাম্য বিচারব্যবস্থা শক্তিশালী করার কথাও বলেন তিনি।
নির্বাচনী সভাগুলোতে মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ফারুক বলেন, “আমি বিজয়ী হলে জকিগঞ্জ–কানাইঘাট একটি উন্নত ও আধুনিক মডেল এলাকা হিসেবে সারা দেশে পরিচিতি লাভ করবে। পিছিয়ে পড়া এই এলাকার উন্নয়নে সকল খাতে বাড়তি বরাদ্দ প্রয়োজন, যা আদায়ে আমি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারব।”
.png)