বুধবার (১১ মার্চ) ২১ রমজান আশুলিয়ার এলাহী কমিউনিটি সেন্টারে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ঢাকা জেলা উত্তরের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালে প্রায় দুই হাজার ছাত্র-জনতার শাহাদাত এবং অর্ধলক্ষাধিক মানুষের হতাহতের বিনিময়ে দেশ একটি নতুন স্বাধীনতার স্বাদ পেয়েছে। সেই আন্দোলনের চেতনা ও আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন দল-মতের ঐকমত্যের ভিত্তিতে জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয় এবং পরবর্তীতে গণভোটে দেশের মানুষ জুলাই সনদের পক্ষে রায় দেয়।
মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, তখন ঘোষণা ছিল—নির্বাচনের পর নির্বাচিত সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো স্বৈরাচার রাষ্ট্রক্ষমতায় চেপে বসতে না পারে। কিন্তু বর্তমান সরকার নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই জুলাই সনদ নিয়ে টালবাহানা শুরু করেছে, যা জনগণের প্রত্যাশার পরিপন্থী।
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়েও ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ উঠেছে। আল্লামা মামুনুল হককে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর মাধ্যমে পরাজিত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এরপরও দেশের মানুষ আশা করেছিল, সরকার অন্তত জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনরায়ের প্রতি সম্মান দেখাবে। কিন্তু বাস্তবে তার কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।
ইফতার-পূর্ব আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ঢাকা জেলা উত্তরের সভাপতি মাওলানা আনোয়ার হোসাইন কাসেমী।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুর রহমান হেলাল, কেন্দ্রীয় বায়তুল মাল সম্পাদক মাওলানা ফজলুর রহমান, সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা মো. আব্দুল গফুর এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা জেলা উত্তরের রাজনৈতিক সম্পাদক হাসান মাস্টার।
এছাড়া আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ঢাকা জেলা উত্তরের সাধারণ সম্পাদক মুফতি ফারুক হোসাইন, সহ-সভাপতি মুফতি আব্দুল আজিজ, সহ-সভাপতি মুফতি আব্দুল্লাহ বিন কাসিম, সহ-সভাপতি মুফতি সুলতান মাহমুদ, সহ-সাধারণ সম্পাদক মুফতি মাহফুজ হায়দার কাসেমী ও মুফতি নাজমুল ইসলাম শাকিলসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সভা শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং জুলাই সনদের বাস্তবায়নের জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়।
