দলের প্রতি মন ক্ষুণ্ন হওয়ায় জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের সিলেট মহানগরের নেতা সালাহ উদ্দিন মিরাজ রুকনিয়াতসহ সংগঠনের সব ধরনের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। এ বিষয়ে তিনি ইতোমধ্যে সিলেট মহানগর জামায়াতের আমীর ফখরুল ইসলামের কাছে একটি পত্র পাঠিয়ে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।
শুক্রবার (৬ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি তার রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
ফেসবুক পোস্টে সালাহ উদ্দিন মিরাজ লিখেছেন, জীবনের সূচনালগ্ন থেকেই সংগঠন তার আত্মার আত্মীয়। ২০০৫ সালে তিনি ‘সাথী’ হিসেবে শপথ গ্রহণের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে সংগঠনের সাথে যুক্ত হন। সে সময় যারা তাকে স্নেহ ও ভালোবাসা দিয়ে গড়ে তুলেছিলেন, তাদের মধ্যে মুহিম চাচা, আবুল ভাই, নিজাম ভাই, জামাল ভাই, জাফর ভাই (পলিটেকনিক) ও মাজহার ভাইয়ের নাম উল্লেখ করেন তিনি।
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় ২০১৩ সালে তিনি ‘রুকন’ হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। পরে ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ২৬ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি এবং ২০১৭ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ২৫ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ ২০২৩ সালে ২৫ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
এছাড়া ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ সুরমা থানা জামায়াতের নির্বাচিত শুরা সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। একই বছর থেকে থানা যুব বিভাগের সেক্রেটারি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সালাহ উদ্দিন মিরাজ বলেন, “আমি আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বলতে চাই, এই দীর্ঘ পথচলায় নিজের স্বার্থ রক্ষার জন্য কখনো সংগঠনের কোনো আমানতের খেয়ানত করিনি কিংবা ব্যক্তিগত স্বার্থে সংগঠনকে ব্যবহার করিনি।”
তিনি আরও বলেন, “২৫ নম্বর ওয়ার্ডকে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সর্বোচ্চ উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছি। কিন্তু কিছু অযাচিত সিদ্ধান্ত বারবার আমার পথচলাকে বাধাগ্রস্ত করেছে। ফলে এই প্ল্যাটফর্মে নিজেকে অপরাধী হিসেবে দেখতে পাচ্ছি।”
তার ক্ষুদ্র রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি মনে করেন, নিজের কারণে সংগঠনে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থাকলে সরে দাঁড়ানোই উত্তম। পোস্টের শেষাংশে তিনি সবার কাছে দোয়া কামনা করেন।
