জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার পদ ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধী দল হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর ভেতরে নবীন ও প্রবীণ মিলিয়ে পাঁচজন সংসদ সদস্যের নাম ঘুরছে আলোচনায়। যদিও দলটির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি।
সোমবার (২ মার্চ) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, জাতীয় সংসদে বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতকে ডেপুটি স্পিকার পদ গ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। তাঁর এ বক্তব্যের পরপরই সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা তীব্র হয়।
আলোচনায় সাবেক শীর্ষ নেতাদের সন্তান
ডেপুটি স্পিকার পদের দৌড়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন জামায়াতের সাবেক আমির মওলানা মতিউর রহমান নিজামী-এর ছেলে নাজিবুর রহমান মোমেন। তিনি পাবনা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
একই সঙ্গে আলোচনায় আছেন জামায়াতের সাবেক নেতা মীর কাসেম আলি-এর ছেলে আহমদ বিন কাসেম আরমান। তিনি ঢাকা-১৪ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন।
দলীয় সূত্রের দাবি, অতীতে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার পদে আইনজ্ঞদের অগ্রাধিকার দেওয়ার রীতি থাকায় এ দুই ব্যারিস্টারের সম্ভাবনা বাড়তে পারে। তবে তুলনামূলক কম বয়সী হওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ এ পদে তাঁদের মনোনয়ন নিয়ে দলীয় অন্দরেই মতভেদ রয়েছে।
প্রবীণদের নামও আলোচনায়
ডেপুটি স্পিকার পদে প্রবীণ নেতাদের মধ্যেও কয়েকজনের নাম শোনা যাচ্ছে। রাজশাহী-১ আসন থেকে নির্বাচিত অধ্যাপক মুজিবুর রহমান সম্ভাব্য প্রার্থীদের একজন। তিনি বর্তমানে জামায়াতের নায়েবে আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং অতীতে ভারপ্রাপ্ত আমিরের দায়িত্বও সামলেছেন।
এছাড়া সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খানও আলোচনায় রয়েছেন। তিনি সিরাজগঞ্জ-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং অতীতে ছাত্রশিবির ও দলীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
ডেপুটি স্পিকারের সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলনও। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা থেকে নির্বাচিত হওয়ায় তাঁর নামও আলোচনায় এসেছে।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি
জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব জানিয়েছে, সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম নিয়ে যে আলোচনা চলছে তা সম্পূর্ণ অনানুষ্ঠানিক। ডেপুটি স্পিকার পদ গ্রহণের আগে দলটি ‘জুলাই সনদ’-এর বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারি দলের অবস্থান পর্যালোচনা করতে চায়।
রোববার (১ মার্চ) নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষায় বিরোধীদল থেকে ডেপুটি স্পিকার নেওয়ার বিষয়ে সনদে উল্লেখ থাকলেও এর পূর্ণ বাস্তবায়ন নিয়ে জামায়াত সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। প্রয়োজনীয় অঙ্গীকার বাস্তবায়িত না হলে দলটি পদ গ্রহণ না-ও করতে পারে বলে বৈঠকে মত উঠে এসেছে।
দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানিয়েছেন, ১১ দলের সংসদীয় টিমের সঙ্গে আলোচনা করে ডেপুটি স্পিকার পদে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। তবে সংসদীয় টিমের বৈঠকের সম্ভাব্য সময়সূচি এখনো নির্ধারিত হয়নি।
সব মিলিয়ে ডেপুটি স্পিকার পদ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা চললেও জামায়াতের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।
