শান্তিগঞ্জে আকস্মিক ঝড়ে অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত

 

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলায় আকস্মিক ঝড়ে অন্তত অর্ধশতাধিক বসতঘর, দোকানপাট ও বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সোমবার দিবাগত গভীর রাতে আঘাত হানা এই ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে হঠাৎ প্রবল বেগে ঝড় শুরু হয়। প্রায় আধঘণ্টা স্থায়ী এই ঝড়ে উপজেলার পশ্চিম পাগলা, জয়কলস ও পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ঘরবাড়ি, দোকান, গ্যারেজ ও গোদাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের ইনাতনগর গ্রামের মোদি দোকানদার আলী হায়দার জানান, শবই-কদরের রাতের ইবাদত শেষে তিনি ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। হঠাৎ ঝড়ের তাণ্ডবে তাঁর ঘুম ভেঙে যায়। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এক কক্ষ থেকে অন্য কক্ষে আশ্রয় নিতে ছুটে বেড়ান। পরে ঝড় থামলে গিয়ে দেখেন তাঁর দোকানটি উপড়ে গিয়ে পাশের একটি গাছের ওপর পড়ে আছে। দোকানের ফ্রিজ, টেলিভিশন, বৈদ্যুতিক দাঁড়িপাল্লাসহ বিভিন্ন মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে। এতে তাঁর অন্তত দেড় লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানান তিনি।

ঈদের আগে দোকানের জন্য বাড়তি পণ্য মজুত করেছিলেন উল্লেখ করে আলী হায়দার বলেন, চাল, ডাল, তেল, চিনি, ময়দাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক পণ্য নষ্ট হয়ে গেছে। কিছু জিনিস উদ্ধার করে শুকাতে দিয়েছেন, বাকি প্রায় সবই নষ্ট হয়ে গেছে।

এদিকে একই গ্রামের ইউপি সদস্য আলী আহমদ ও শামীম আহমদের দোকানের টিনের চাল উড়ে গেছে। এছাড়া ইনাতনগর গ্রামের এবাদুর রহমানের বসতঘর এবং ফরিদ মিয়ার গ্যারেজের চালও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

জয়কলস ইউনিয়নের ফতেহপুর গ্রামের বিধবা রেহেনা বেগম জানান, ঝড়ে তাঁর বসতঘরের টিনের চাল উড়ে গেছে। এতিম সন্তানদের নিয়ে এখন খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন তিনি। তিনি দ্রুত সরকারি সহায়তা কামনা করেন।

এ বিষয়ে শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহজাহান বলেন, ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই শেষে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।

Previous Post Next Post