প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে সঙ্গীত শিক্ষা চালুর প্রস্তাবের বিরোধিতা করে প্রাথমিকে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সংগঠনটির নেতারা বলেছেন, ধর্মপ্রাণ মুসলিম অভিভাবকদের মতামত উপেক্ষা করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সঙ্গীত শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হলে তা শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করবে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমীর আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান এ মন্তব্য করেন।
বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেন, ইসলামে বাদ্যযন্ত্র অনুমোদিত নয় বিধায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে সঙ্গীত শিক্ষা চালুর বিষয়টি ধর্মপ্রাণ মুসলিম অভিভাবকদের কাছে একটি স্পর্শকাতর ধর্মীয় ইস্যু। তাদের মতামত উপেক্ষা করে শ্রেণিকক্ষে গান-বাজনার শিক্ষা প্রদান করা হলে তা মুসলিম শিশু-কিশোরদের ধর্মীয় স্বাধীনতা খর্ব করতে পারে।
তারা উদাহরণ দিয়ে বলেন, ধর্মনির্বিশেষে সব শিক্ষার্থীকে কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় অনুশীলন শেখানো যেমন অযৌক্তিক, তেমনি সবার জন্য বাধ্যতামূলকভাবে সঙ্গীত শিক্ষা চালুও গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি ধর্মীয় স্বাধীনতার সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তা গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করার আহ্বান জানান তারা।
হেফাজত নেতারা আরও বলেন, দেশে সঙ্গীত শিক্ষার জন্য পৃথক বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কোনো অভিভাবক চাইলে তার সন্তানকে সেখানে সঙ্গীত শিক্ষার ব্যবস্থা করতে পারেন। তবে সঙ্গীত শিক্ষা সবার জন্য অপরিহার্য নয়, বরং নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য ধর্মশিক্ষা প্রয়োজনীয়।
তারা দীর্ঘদিন ধরে প্রাথমিকে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানিয়ে আসছেন বলেও উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে মুসলিমসহ অন্যান্য ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের জন্যও ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা করলে সবার ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত হবে বলে মত দেন তারা।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দেশের সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থা নানা কারণে চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে এবং অভিভাবকদের আস্থার সংকট দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের জন্য দ্বীনশিক্ষা ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান সংগঠনটির নেতারা।
.png)
.png)