দীর্ঘ নয় মাস ধরে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে ১০ বছর বয়সী শিশু তাহসিন। হৃদয়বিদারক এ ঘটনা ঘটেছে তার নিজের বাসাতেই। অভিযোগ উঠেছে, এক ব্যক্তির নেতৃত্বে তাহসিনের ওপর চালানো হয় ভয়াবহ শারীরিক নির্যাতন, আর এতে সহযোগিতা করেন শিশুটির মা ও দুই খালা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তাহসিনকে প্রায়ই হাত-পা বেঁধে মারধর করা হতো। নির্যাতনের সময় তার আর্তচিৎকার আশপাশের বাসিন্দাদের কানে পৌঁছালেও পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, মারধরের পর ক্ষতস্থানে লবণ ও মরিচ লাগানো হতো, যা নির্যাতনের ভয়াবহতাকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
প্রতিবেশী আশিক নামের এক যুবক দীর্ঘদিন ধরে শিশুটির কান্নার শব্দ শুনে সন্দেহ করেন। পরে কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে তারা তাহসিনের করুণ অবস্থা দেখতে পান। অভিযোগ রয়েছে, শিশুটির মুখে স্কচটেপ ও কাপড় বেঁধে নির্যাতন করা হতো যাতে তার চিৎকার বাইরে না যায়।
পরে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করে। এ সময় গুরুতর আহত অবস্থায় তাহসিনকে উদ্ধার করা হয়।
তাহসিনের প্রবাসী বাবা ফোনে জানান, তিনি ওই ব্যক্তিকে চিনেন না এবং তার সন্তানের ওপর এমন নির্যাতনের বিষয়ে কিছুই জানতেন না। শিশুটিও এক ভিডিও বক্তব্যে জানায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি তার বাবা নন।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। শিশুটিকে উদ্ধারে সহযোগিতা করা স্থানীয় তরুণদের প্রশংসা করছেন এলাকাবাসী। একই সঙ্গে নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত সকলের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। কেউ কেউ এটিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্যাতনের ঘটনা হিসেবে প্রচার করলেও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে তাহসিন নিজ বাসাতেই নির্যাতনের শিকার হচ্ছিল।
.png)