দিরাইয়ে হাওর রক্ষা বাধ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ: বরাদ্দের অর্ধেকই বাস্তবে কাজ হয়নি

 দিরাইয়ে হাওর রক্ষা বাধ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ: বরাদ্দের অর্ধেকই বাস্তবে কাজ হয়নি


সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন পিআইসি (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) হাওর রক্ষা বাধ প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, সামান্য কাজ দেখিয়ে প্রকল্পের বরাদ্দ কয়েকগুণ বাড়ানো হচ্ছে এবং এর বড় অংশ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রভাবশালীদের পকেটে চলে যাচ্ছে।
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে দিরাই পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ুমকে। স্থানীয়দের মতে, মাত্র ১ লাখ টাকার প্রকল্প কাগজে-কলমে ৩ লাখ টাকায় রূপ নিচ্ছে এবং প্রকল্পের অঘোষিত অংশে তিনি স্বভাবতই যুক্ত হচ্ছেন।
প্রমাণ হিসেবে এলাকাবাসী দিচ্ছেন দিরাই উপজেলা ৭০ নং পিআইসি, ‘আলিপুর বেরিবাঁধ’। গত বছর এই প্রকল্পে বরাদ্দ ছিল ১৪ লাখ টাকা, চলতি বছরে তা দেখানো হয়েছে প্রায় ২৯ লাখ ৬৭ হাজার টাকা। তবে মাঠপর্যায়ে দেখা গেছে, প্রকল্পের কাজ গত বছরের তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ কম। স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, আরসিসি ঢালাইসহ বিভিন্ন কাজ কাগজে দেখানো হলেও বাস্তবে মান ও পরিমাণ যথাযথ হয়নি। বিশেষ করে ‘আলিপুরের কাল’ এলাকায় মাত্র ৩শ’ মিটার রাস্তার কাজে বিপুল অর্থ বরাদ্দ দেখানো হয়েছে।
চরনারচর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল জলিল বলেন, “এখানে এত টাকার কাজ হওয়ার সুযোগ নেই। কাগজে যা দেখানো হয়েছে, বাস্তবে তার অর্ধেকও হয়নি।”
অভিযুক্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ুম এর আগে শাল্লা উপজেলায়ও দুর্নীতির অভিযোগে সংবাদমাধ্যম ও মানববন্ধনের লক্ষ্যবস্তু ছিলেন। ২০২৩ সালের ১১ এপ্রিল ‘হাওর বাঁচাও’ সংগঠনের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছিল।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দিরাই উপজেলার পিআইসি কমিটির তালিকা এখনও প্রকাশ করা হয়নি। এতে কমিটির গঠন, সদস্যদের নাম ও দায়িত্ব নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল এবং সামাজিক সংগঠনগুলো প্রশাসন ও দুর্নীতি দমন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এবং সাংবাদিকদেরও বিষয়টি অনুসন্ধান করে প্রকাশ করার আহ্বান জানিয়েছেন। চরনারচর ইউনিয়নের একাধিক বাসিন্দা জানিয়েছেন, “এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে এখনই রুখে দাঁড়ানো না গেলে এলাকার উন্নয়ন বিপন্ন হবে।”

অভিযুক্ত দিরাই উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা (এসও) আব্দুল কাইয়ুম জানিয়েছেন, “চরনারচর ইউনিয়নের বিষয়টি দেখছি। কিছুটা ভুল হয়েছে, সার্ভে পাঠিয়ে ঠিক করা হবে।

Previous Post Next Post