সুনামগঞ্জে গ্রেপ্তার ও আতঙ্ক ছড়ালে ভোটকেন্দ্রে যাবে না মানুষ — শাহিনুর পাশাসহ বিভিন্ন প্রার্থী

 


নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে হলে সব প্রার্থীকে সমান সুযোগ দিতে হবে। কিন্তু গ্রেপ্তার আতঙ্ক ও নানা ধরনের হয়রানির কারণে সাধারণ মানুষ ভোটকেন্দ্রে যেতে নিরুৎসাহিত হচ্ছে। এভাবে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হলে ভোটার উপস্থিতি আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাবে।

মঙ্গলবার দুপুরে সুনামগঞ্জ ঐতিহ্য জাদুঘর প্রাঙ্গণে আয়োজিত গণভোট ২০২৬ সংক্রান্ত অবহিতকরণ সভায় এসব কথা বলেন সুনামগঞ্জ-৩ ও সুনামগঞ্জ-৪ আসনের বিভিন্ন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন।

সুনামগঞ্জ-৩ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী মাওলানা শাহিনুর পাশা বলেন, “আমরা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে আছি। তবে আমার এলাকায় মানুষকে গ্রেপ্তার করার জন্য বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে, যা নির্বিঘ্ন নির্বাচনের অন্তরায়।” তিনি পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, যেন তার এলাকায় এ ধরনের কোনো ঘটনা না ঘটে।

একই আসনে বিএনপির বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন বলেন, কয়েক সপ্তাহ আগে তার নির্বাচনী এলাকার একজন কারেন্ট মেম্বারকে গ্রেপ্তার করা হয়, যিনি এক সপ্তাহ পর জামিনে মুক্ত হন। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, “কোন দলকে ভোট দিলে মামলা হবে বা পুলিশ ধরে নিয়ে যাবে—এমন ভীতিকর পরিস্থিতিতে জনগণ কীভাবে নির্বাচনে অংশ নেবে?” তিনি আরও বলেন, ভীতি তৈরি করে মানুষকে এলাকা ছাড়া করলে ২০ শতাংশ ভোটও কাস্ট হবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

সুনামগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন বলেন, ভোটার উপস্থিতি বাড়ানোর লক্ষ্যে একসঙ্গে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজন করা হয়েছে—এটা তার বিশ্বাস। কিন্তু একটি মহল হুমকি দিচ্ছে, নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট না দিলে মামলা দেওয়া হবে বা পুলিশ গ্রেপ্তার করবে। এতে গণভোটের উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ও ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী মো. শামছ উদ্দিন বলেন, যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট মামলা আছে তাদের বাদ দিয়ে সাধারণ মানুষকে গ্রেপ্তার ও আতঙ্কিত করা হলে সুষ্ঠু ভোট সম্ভব নয়। তিনি অভিযোগ করেন, মাঠে নির্দিষ্ট একটি দলের পক্ষে ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে, যা নির্বাচনী আচরণবিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন। এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী শহিদুল ইসলাম পলাশী বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষসহ অনেক ভোটার আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। ইমামদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে—নির্দিষ্ট মার্কায় ভোট না দিলে ইমামতি থাকবে না। ব্যবসায়ীদেরও ক্ষতির ভয় দেখানো হচ্ছে। এমনকি তার দলের কয়েকজন নেতাকর্মীকে হেনস্থার অভিযোগও করেন তিনি।

তিনি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, কোনো প্রার্থী বা তাদের প্রতিনিধি যেন ইমাম, সংখ্যালঘু সম্প্রদায় কিংবা সাধারণ ভোটারদের হুমকি দিতে না পারে—এ বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

Previous Post Next Post