‘টানা ২৫ বছর বিরতিহীনভাবে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি’
— মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী
জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব ও জমিয়ত + বিএনপি জোট মনোনীত নীলফামারী-১ (ডোমার–ডিমলা) আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী বলেছেন, একজন প্রার্থী হিসেবে নিজেকে যোগ্য দাবি করার কোনো প্রশ্নই আসে না। তাঁর যোগ্যতা, সক্ষমতা ও ক্যাপাবিলিটি কতটুকু—তা জনগণই নির্ণয় করে জাতির সামনে তুলে ধরবেন।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রাতে নীলফামারীর ডোমার উপজেলার সোনারায় এলাকায় নিজ বাড়িতে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
মাওলানা আফেন্দী বলেন,
“আল্লাহতায়ালার কাছে জবাবদিহির অনুভূতি থেকেই বলছি—দুনিয়ার কোনো স্বার্থ কিংবা রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ থেকে আমি রাজনীতিতে আসিনি। ২০০১ সাল থেকে জনসেবার উদ্দেশ্যেই মাঠে নেমেছি। আল্লাহ যদি আমাকে কাঙ্ক্ষিত সফলতার গন্তব্যে পৌঁছানোর সুযোগ দেন, তাহলে আপনারাই আমাকে পরীক্ষা করার সুযোগ পাবেন।”
তিনি জানান, দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থা ও নিজ উদ্যোগে এলাকার মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছে—মসজিদ ও মাদ্রাসা নির্মাণ, টিউবওয়েল বিতরণ, অসহায়দের ঘর নির্মাণ, সেলাই মেশিন বিতরণ, করোনাভাইরাস মহামারিকালে নানামুখী সহায়তা, ঈদসামগ্রী বিতরণ এবং অস্বচ্ছল রোগীদের জন্য স্বল্প খরচে অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু।
মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী বলেন,
“যখনই বাইরে থেকে কোনো অনুদান বা সহযোগিতার সন্ধান পাই, সেটি সর্বপ্রথম নিজ এলাকায় আনার চেষ্টা করি। বৃহৎ পরিসরে মানুষের সেবা করার সুযোগ পেলে এসব কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত ও নতুন মাত্রায় নিয়ে যেতে চাই। মূলত এই লক্ষ্য থেকেই আমার নির্বাচনে অংশগ্রহণ।”
রাজনৈতিক শিষ্টাচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন,
“আমরা সব প্রার্থীকে সম্মান করি। ইতিবাচক কিংবা নেতিবাচক—সব ধরনের মূল্যায়ন ও বিশ্লেষণকে শ্রদ্ধার সঙ্গে গ্রহণ করি। মানুষ হিসেবে ভুল হতে পারে। সেই ভুলগুলো যদি উঠে আসে এবং সংশোধনের সুযোগ তৈরি হয়, আমি সেটিকে সৌভাগ্য হিসেবেই বিবেচনা করি।”
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন,
“আমরা এমন একটি রাজনৈতিক ধারার প্রতিনিধিত্ব করি, যাদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী কোনো অপবাদ দেওয়ার সুযোগ নেই। আমাদের অনেক সহযোগী মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। আমরা মহান মুক্তিযুদ্ধকে একটি চোখ এবং ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনকে আরেকটি চোখ হিসেবে দেখি।”
মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের ডোমার উপজেলা সভাপতি সাজ্জাদ কিবরিয়া পাপ্পু, ডোমার কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম ও খতিব আলহাজ মুফতি মাওলানা মাহমুদ বিন আলম, ডোমার প্রেসক্লাব, রিপোর্টার্স ক্লাব ও ডোমার রিপোর্টার্স ইউনিটির নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা।
