দলের প্রতি অনুগত ও ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করতে শুরু করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন না পেলেও দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করা নেতাদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আনা হচ্ছে। ইতিমধ্যে কয়েকজন নেতা মূল্যায়িত হয়েছেন, আর তালিকায় রয়েছেন আরও কয়েকজন।
সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা–ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ) আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। তবে শেষ পর্যন্ত দল তাকে মনোনয়ন দেয়নি। এ সিদ্ধান্তে তিনি প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নামেন। মনোনয়ন দৌড়ে প্রতিদ্বন্দ্বী এম এ মালিকের বিজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। পরবর্তীতে সরকার গঠনের পর তার এই ত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া মূল্যায়িত নেতাদের মধ্যে রয়েছেন সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আবুল কাহের চৌধুরী শামীম। তিনি সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) আসন থেকে দীর্ঘদিন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিলেও শেষ পর্যন্ত দলীয় মনোনয়ন পাননি। তবে দলীয় প্রতীক বরাদ্দের পর তিনি নির্বাচনী মাঠে নেমে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করেন এবং বিজয় নিশ্চিত করতে অবদান রাখেন।
একইভাবে বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান চৌধুরীকেও মূল্যায়ন করা হয়েছে। মনোনয়নের দৌড়ে এগিয়ে থাকলেও দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়ে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেন। তার এই অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এদিকে মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমানকে মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
তবে ত্যাগী নেতাদের এই তালিকায় সিলেটের আরও কয়েকজন নেতার নাম রয়েছে, যাদের মূল্যায়নের প্রত্যাশা করছেন নেতাকর্মীরা। তাদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এ সালাম। সিলেট-৩ আসনে দীর্ঘদিন প্রচারণা চালালেও তিনি দলীয় মনোনয়ন পাননি। এরপরও দলীয় প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় থেকে বিজয় নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
এ তালিকায় রয়েছেন সিলেট-৬ আসনের ২০১৮ সালের বিএনপি প্রার্থী ও জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ফয়সল আহমদ চৌধুরী। দীর্ঘদিন গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার এলাকায় প্রচারণা চালিয়ে গেলেও এবার মনোনয়ন পাননি। তবুও তিনি দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে প্রার্থীর পক্ষে কাজ করে গেছেন।
সিলেট-৪ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন গোয়াইনঘাট উপজেলার সাবেক তিনবারের নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম চৌধুরী। তিনি দীর্ঘদিন গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ ও জৈন্তাপুর উপজেলায় দলীয় কর্মকাণ্ড জোরদার করেন। মনোনয়ন না পেলেও দলীয় প্রার্থীর পক্ষে নিরলসভাবে কাজ করেছেন।
সিলেট-৫ আসনে বিএনপি সরাসরি কোনো প্রার্থী না দিয়ে জোট প্রার্থী জমিয়তের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুককে সমর্থন দেয়। যদিও দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে জেলা বিএনপির প্রথম সহ-সভাপতি মামুনুর রশীদ চাকসু মামুন বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন এবং পরে পরাজিত হন। এ ঘটনায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
অন্যদিকে একই আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন সিলেট জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক সিদ্দিকুর রহমান পাপলু। মনোনয়ন না পেলেও তিনি শেষ পর্যন্ত জোট প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেন।
এছাড়াও সিলেট-৩ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন সিলেট জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আব্দুল আহাদ খান জামাল এবং সিলেট-৬ আসন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন সাবেক সাংসদ ড. সৈয়দ মকবুল হোসেন লেচু মিয়ার মেয়ে সৈয়দা আদিবা হোসেন। দলীয় মনোনয়ন না পেলেও তারাও নিজ নিজ এলাকায় দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন।
দলীয় সূত্র জানায়, দলের প্রতি আনুগত্য ও ত্যাগের মূল্যায়নে বিএনপি আরও কিছু নেতাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আনতে পারে। ত্যাগী এসব নেতার যথাযথ মূল্যায়ন হবে—এমন প্রত্যাশা করছেন নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।
