যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বাণিজ্যচুক্তি বাতিলের দাবি জমিয়তের, দেশব্যাপী বিক্ষোভের ঘোষণা

 

যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বাণিজ্যচুক্তিকে “দেশবিরোধী ও অসম চুক্তি” আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের দাবি জানিয়েছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ। একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম নির্যাতনের প্রতিবাদে আগামী ১৫ মে দেশব্যাপী বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচিও ঘোষণা করেছে দলটি।

মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব দাবি তুলে ধরেন দলের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী। সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন দলের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক

লিখিত বক্তব্যে জমিয়ত নেতারা বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে দলটির ঐতিহাসিক ভূমিকা রয়েছে। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনেও তারা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছে এবং এ সময় দলের বহু নেতাকর্মী হতাহত ও গ্রেফতারের শিকার হয়েছেন।

তারা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংলাপে জমিয়ত নিয়মিত অংশ নেয় এবং জুলাই সনদে স্বাক্ষর করে। তবে সংবিধান ও জুলাই সনদ—উভয়কেই রাষ্ট্রের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করে দলটি জানায়, একটিকে প্রাধান্য দিয়ে অন্যটিকে উপেক্ষা করা গ্রহণযোগ্য নয়।

সংবাদ সম্মেলনে গত ৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। জমিয়তের দাবি, চুক্তিতে বাংলাদেশকে ১৩১টি শর্ত মানতে হলেও যুক্তরাষ্ট্রকে মানতে হবে মাত্র ৬টি শর্ত। দলটির ভাষ্য অনুযায়ী, এটি একটি “গোলামিচুক্তি”, যা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও নীতিনির্ধারণী ক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

নেতারা অভিযোগ করেন, চুক্তির আওতায় বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িং বিমান, এলএনজি, কৃষিপণ্য ও সামরিক সরঞ্জাম কিনতে বাধ্য করা হয়েছে, যদিও অন্য দেশ থেকে এসব পণ্য কম দামে কেনার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া চুক্তির পরিশিষ্টে শূকরজাত পণ্য আমদানির সুযোগ রাখার বিষয়টিকে দেশের ধর্মীয় মূল্যবোধ ও খাদ্যনীতির পরিপন্থী বলে উল্লেখ করা হয়।

জমিয়ত নেতারা আরও বলেন, ঢাকায় জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের কান্ট্রি অফিস স্থাপনের চুক্তিও তারা সমর্থন করেন না। অবিলম্বে এসব চুক্তি বাতিলে নতুন সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমদের ওপর হামলা, মসজিদ-মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দলটি বিজেপি সরকারের প্রতি এসব নির্যাতন বন্ধের আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বানও জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জমিয়ত সরকারের কাছে ১০ দফা দাবি তুলে ধরে। এর মধ্যে রয়েছে—অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সম্পাদিত সব চুক্তি প্রকাশ, জ্বালানি সংকট ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, জুলাই হত্যা ও শাপলা ট্রাজেডির বিচার, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি দমন, শিক্ষায় ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা এবং কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের রাষ্ট্রীয় চাকরিতে সুযোগ সৃষ্টি।

এছাড়া আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানির পশুর চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত ও চামড়া শিল্প রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণেরও দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী, সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস তালুকদার, মাওলানা নাজমুল হাসান কাসেমী, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়াসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

জমিয়ত ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী শুক্রবার (১৫ মে) বাদ জুমা দেশব্যাপী বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকায় বিক্ষোভ মিছিল শুরু হবে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ উত্তর গেট থেকে।

Previous Post Next Post